সাড়ে তিনশ’ বছরের পুরনো মসজিদ দাগনভূঞায়

নোয়াখালীতে মোগল বিজয়ের স্মারক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে দাগনভূঞা চৌধুরী দরজা জামে মসজিদ। এটি বর্তমানে অলি আহমদ ভূঞা চৌধুরী জামে মসজিদ নামে পরিচিত।

প্রায় সাড়ে তিনশ’ বছরের পুরনো এ মসজিদ বৃহত্তর নোয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী এবং মুসলিম স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন।

ইতিহাস ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, এ এলাকায় এক সময় হিন্দু জলদস্যুদের বিচরণ ছিল। ১৬৭০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালী অঞ্চলে মোগল সাম্রাজ্যভুক্ত হওয়ার পর ১২ ভূঞা নামে একদল মোগল সদস্য এ নোয়াখালীতে আসেন। এদের মধ্যে একজন সেনাপতি দাগনভূঞা চৌধুরী এ জেলার শাসনকর্তা নিযুক্ত হন। সেই থেকে এ জায়গার নাম হয় দাগনভূঞা।  নোয়াখালী বিজয়ের দুই বছর পর ১৬৭২ সালে দাগনভূঞা চৌধুরী এখানে তার নামে দুইশ’ একর জমি অ্যাকোয়ার করে জমিদারি প্রথা চালু করেন। তার বাড়ির সামনের দরজা ঘেঁষে নিজ নামে নির্মাণ করেন দাগনভূঞা চৌধুরী দরজা জামে মসজিদ। নোয়াখালী শহর মাইজদী থেকে ২৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং ফেনী শহর থেকে ২০ কিলোমিটার পশ্চিমে সেবারহাট ও দাগনভূঞা বাজারের মধ্যবর্তী স্থানে এবং নোয়াখালী-চট্টগ্রাম সড়কের পাশে মসজিদটি অবস্থিত।

এ মসজিদের অপূর্ব কারুকার্য সবাইকে মুগ্ধ করে।  দাগনভূঞা চৌধুরী মসজিদটির পেছনে এবং সামনে একশ’ একর জমির ওপর বাড়ি ও মসজিদ নির্মাণ করেন। বাড়ি ও মসজিদ থেকে পূর্বদিকে ফেনী ও বসুরহাট সড়কে একশ’ একর জমির ওপর দাগনভূঞা নামে একটি বাজারও স্থাপন করেন তিনি।

দাগনভূঞা চৌধুরী বাড়ির সামনে কবরস্থানের পাশে স্থাপিত ফলক অনুযায়ী ১৬৭২ সালে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মসজিদটি নির্মাণশৈলী অনুপম নিদর্শন। এ মসজিদ বর্গ আকারে, যার দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট  ও প্রস্থ ৩৫ ফুট। উত্তর ও পূর্ব দিকে প্রবেশপথ রয়েছে। উত্তর পাশে দেয়াল ঘেঁষে রয়েছে লম্বালম্বি নোয়াখালী-ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। ওপরে পুরো ছাদে আছে তিনটি গম্বুজ। এ ছাড়া চার কোণে নিপুণভাবে তৈরি মসজিদের দেয়ালে সাড়ে ৫ ফুট গাঁথনি, যা চুন, চুরকি দিয়ে গাঁথা। মসজিদের বাইরে, ভেতরে সুন্দর কারুকার্য করা নকশা। বাইরে সুরম্য দরজাসহ পুরো সীমানার চারপাশে দেয়াল রয়েছে।  মসজিদের সম্মুখে আঙ্গিনা পাকা করা। পাশে বড় দীঘি। চার কোনার পিলারের ওপর রয়েছে ১৫টি মিনার। মিনারগুলো ছাদের কিছু ওপরে ওঠে গম্বুজ আকৃতিতে শেষ হয়েছে। মিহরাবের পশ্চিম দেয়ালের সমান্তরালভাবে মসজিদে প্রবেশের জন্য ছয়টি মিহরাবে পাঁচটি ধনুক আকৃতির প্রবেশপথ রয়েছে। প্রতিটির উচ্চতা ৭ ফুট ৫ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ৫ ফুট ৩ দশমিক ৪ ইঞ্চি।Image result for দাগনভূঞা চৌধুরী দরজা জামে মসজিদ

মসজিদকে ঘিরে এখানে প্রতিদিন শত শত ধর্মপ্রাণ নারী-পুরুষ আসে। তারা এবাদত-বন্দেগি করাসহ দাগনভূঞা চৌধুরীর কবর জিয়ারত করে। কেউ কেউ ইমাম সাহেবের কাছ থেকে পানি পড়া নেয়। দাগনভূঞা চৌধুরী বংশধর রাজীব ভূঁইয়া চৌধুরী ও কবির আহমেদ ভূঁইয়া চৌধুরী  জানান, সাড়ে তিনশ’ বছরের প্রাচীন মসজিদটি দেখার জন্য প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসে। মসজিদটি মোগল শাসন আমলের বিজয়ের মাইলফলক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

লেখক এম সালাহউদ্দিন

Share Button

2 thoughts on “সাড়ে তিনশ’ বছরের পুরনো মসজিদ দাগনভূঞায়

  • November 11, 2017 at 4:09 am
    Permalink

    This information is wrong this may 20%wright 80%wrong if you want to correction contact now 01714396838

    Reply
    • November 11, 2017 at 8:07 am
      Permalink

      আপনার সদিচ্ছার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। অচিরে আপনার সাথে যোগাযোগ করা হবে ইন শা আল্লাহ ।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *