এক বীর মুক্তিযোদ্ধা ভিক্ষুক

ছবির অশীতিপর, জীর্ণশীর্ণ, দৃষ্টিশক্তি হারাতে চলা এই ব্যাক্তি একজন মহান বীর মুক্তিযোদ্ধা। নামঃ মনির আহম্মদ, পিতাঃ মৃত শ্রাবণ আলি, সাংঃ ১৪ নং পুরানগর ইউনিয়ন(অত্র ইউনিয়ন স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামীলীগের ঘাঁটি একই সাথে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ‘টুঙ্গিপাড়া’ হিসেবে খ্যাত), উপজেলাঃ সাতকানিয়া, সংসদীয় আসনঃ চট্টগ্রাম-১৩ (চন্দনাইশ- সাতকানিয়া আংশিক)
এবার শুনুন তার স্বীকৃতি বিহীন হওয়ার গল্প।


সনদ প্রাপ্তির সকল প্রমানপত্র লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ থাকা মুক্তিযোদ্ধা মনির দীর্ঘদিন হন্য হয়ে ঘুরেও উপজেলা কমান্ডের তথাকথিত নেতাদের দুই লক্ষ টাকার আবদার পূরণ করতে না পারায় এখনো স্বীকৃতি বঞ্চিত।
সামাজিক বাস্তবতায় সম্মানহানি ও লোকলজ্জার ভয়ে গ্রামের এলাকা ছেড়ে তিনি এখন চট্টগ্রাম কোর্ট, কোতোয়ালীর মোড়, লালদীঘির পাড়, জেলগেট, রিয়াজুদ্দিন বাজারসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের জেলাসমুহের অলিগলিতে ভিক্ষা করে বেড়ান।


জাতির জনকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে জীবন বাজি রেখে একাত্তরের রণাঙ্গনে গিয়েছিলেন। এক নং সেক্টরে মেজর রফিকের নেতৃত্বাধীন থেকে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারী, সীতাকুন্ড এবং শুভপুর ব্রীজ এলাকায় বীরদর্পে যুদ্ধ করে আহতও হন তিনি। মৃত্যুর কাছাকাছি গিয়েও গাজী হয়ে বীরের বেশে বিজয় ছিনিয়ে ফিরেছেন; আমরা পেলাম স্বাধীন দেশ। আজ ভাগ্যের নির্মম পরিহাস বলবনা; মনুষ্যবেশি কিছু স্থানীয় ঠগ ও জানোয়ার নেতার কারণে প্রাপ্য অধিকার ও সম্মানবঞ্চিত থেকে উনার হাতে আজ ভিক্ষার ঝুলি আর কিছু পেপার কাটিং-ই শেষ সম্বল। অথচ সংশ্লিষ্ট উপজেলায় পুরানগর ইউনিয়নসহ বেশকটি ইউনিয়নে প্রভাব প্রতিপত্তির জোরে অনেকেই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শেজে দীর্ঘদিন ধরে ভাতা, সন্তানদের চাকুরী ও অন্যান্য সুবিধাদি গ্রহন করে চলেছেন যা খুবই গর্হিত। প্রকৃত যোদ্ধা হওয়ায় কি মনিরের অপরাধ?

স্থানীয় এম পি জনাব নজরুল ইসলাম চৌধুরী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা আশা করছি তিনি দ্রুততর সময়ে জীবন্মৃত জনাব মনির আহম্মদের প্রাপ্য অধিকার আনয়নে সচেষ্ট হবেন।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *