লিবিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশী প্রবাসী ভাইদের জন্য জরুরী

আমরা সবসময় দেখি যে, লিবিয়া থেকে আগত যাত্রিরা তাদের কোন চেক্ড ব্যাগই পাচ্ছেন না। ক্ষতিপূরণও পাচ্ছেন না। অধিকন্তু দিনের পর দিন ব্যাগের আশায় এয়ারপোর্টে এসে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কেন এমনটি হচ্ছে এবং প্রতিকার কি?

কেন এমনটি হচ্ছে?
আমরা জানি, কয়েকবছর পূর্বে লিবিয়ার রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে অদ্যাবধি লিবিয়ান এয়ারপোর্টসমূহে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক বিমানসংস্থার অপারেশন বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে আমাদের দেশে যেসব এয়ারলাইন্স অপারেট করে, সেগুলোর কোনটিই বর্তমানে লিবিয়াতে অপারেট করে না। মাঝেমধ্যে কেউ শুরু করলেও কয়দিন পর তা বন্ধ হয়ে যায়।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, লিবিয়াতে বর্তমানে যেসব এয়ারলাইন্স অপারেট করছে, তাদের সাথে আমাদের দেশে অপারেটিং কোন এয়ারলাইন্সের বাংলাদেশের পথে এভেইল্যাবল রুটে এগ্রিমেন্ট বা ইন্টারনাল এরেঞ্জমেন্ট নেই। ফলে, লিবিয়া থেকে যেই রুটেই বাংলাদেশে আসা হোক না কেন, যাত্রিকে রুটের বিভিন্ন অংশের জন্য ভিন্ন পিএনআর-এ দুই বা তিন এয়ারলাইন্সে ২/৩টি ভিন্ন টিকেট কিনতে হয়, যেগুলো কোনভাবেই একে অপরের সাথে কানেক্টিং নয়। এক্ষেত্রে যাত্রাবিরতির প্রত্যেক স্টেশনে যাত্রিকে নতুন বোর্ডিংপাস নিতে হবে এবং ব্যাগেজ বুকিং দিয়ে ট্যাগ সংগ্রহ করতে হবে। কার্যতঃ ট্রান্সফার ডেস্কে বোর্ডিংপাস সংগ্রহ করতে পারলেও যাত্রিরা ব্যাগ কালেক্ট করতে না পারায় বুকিং দিতে পারেন না।

উদারণস্বরূপ, আপনি ‘লিবিয়ান উইংগস’ এয়ারলাইনের টিকেটে ত্রিপোলি থেকে ইস্তাম্বুল আসলেন। আপনার টার্কিশ ভিসা না থাকায় ইমিগ্রেশন ক্রস করে ব্যাগ কালেক্ট করতে পারবেন না। ফলে, ব্যাগ বুকিং ছাড়াই আপনি ট্রান্সফার ডেস্কে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের বোর্ডিংপাস নিয়ে ওঠে পড়লেন। এদিকে লিবিয়ান উইংগস এবং এমিরেটসের সাথে কোন এগ্রিমেন্ট বা কানেকশন না থাকায়, এমিরেটসের কাছে আপনার ব্যাগের কোন ইনফরমেশন থাকার কথা নাহ। সঙ্গত কারণে আপনার ব্যাগ চলে যাবে এরাইভাল বেল্টে এবং এক সময় ইস্তাম্বুলের লস্ট এন্ড ফাউন্ড সেকশনে।

আপনি ঢাকায় এসে ব্যাগ না পেয়ে এমিরেটস-এ কমপ্লেইন করলেন। এমিরেটস ট্যাগ দেখে বুঝলো, তারা এই ব্যাগের জন্য লায়েবল নাহ। তবুও তারা একটি কার্টেসী কমপ্লেইন নিয়ে ইস্তাম্বুলে মেসেজ দিলো। ইস্তাম্বুলে এমিরেটস থেকে কয়দিন পরে জানানো হলো, ব্যাগেজ ৪০ কেজি, যেখানে এমিরেটসের টিকেটে ওয়েট এলাউন্স ৩০ কেজি। অতিরিক্ত ১০ কেজির চার্জ বাবদ ২৫ হাজার টাকা জমা দিলে ব্যাগ পাঠানো হবে।

এবার আপনি কোনভাবেই বুঝতে চাচ্ছেন না যে, লিবিয়ান এয়ারলাইন্সের ওয়েট এলাউন্স ৪০ কেজি, যা এমিরেটসের এলাউন্সের চেয়ে ১০ কেজি বেশী। তার উপর ক্ষেত্রভেদে আপনার দাবী হলো, লিবিয়াতে এক্সট্রা চার্জ দিয়ে আরও ওয়েট বুকিং দিয়েছিলেন। পেমেন্ট দেয়ার পরও কেন আবার চার্জ দিতে হবে! যদিও আপনি পেমেন্ট করেছেন কেবল লিবিয়ান এয়ারের সংশ্লিষ্ট অংশের চার্জ।

এই বার্গেইনিং করতে করতে আরও দশ-পনের দিন পার করে দিলেন। একসময় বললেন, আচ্ছা ঠিকাছে, ৪০ কেজির মধ্যে আমার ২৫ কেজির ব্যাগটা এনে দিন। এমিরেটস খবর নিয়ে জানলো, ততদিনে ইস্তাম্বুল এয়ারপোর্ট অথরিটি বিধিমতে ব্যাগ মুল এয়ারলাইন্স তথা লিবিয়ান সেই এয়ালাইন্সে হ্যান্ডওভার করে দিয়েছেন এবং ব্যাগ চলে গেছে ত্রিপোলি! ফাইনালি ব্যাগের আশা বাদ দিয়ে আপনি হতাশ হয়ে চলে গেলেন।

প্রতিকারঃ
১. ভালো
২. মন্দের ভালো

১. ভালোঃ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া অবদি লিবিয়া থেকে আসার সময় কোন ধরণের বুকিং ব্যাগ না আনা।

২. মন্দের ভালোঃ টিকেট কেনার সময় ট্রাভেল এজেন্সীর সাথে কথা বলে কিংবা টিকেট পর্যবেক্ষণ করে নিশ্চিত হয়ে নিন, একাধিক টিকেটের মধ্যে কোন টিকেটে ব্যাগেজ এলাউন্স কত কেজি? এগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন যেই এলাউন্স, সেটার মধ্যেই আপনার বুকিং ব্যাগেজের ওয়েট সীমাবদ্ধ রাখুন। এতে করে আসার দিন ব্যাগ না পেলেও কমপ্লেইন করার এক-দুই দিনের মধ্যে ব্যাগ চলে আসবে। অতিরিক্ত ওজন চার্জ জটিলতায় সময় ক্ষেপন হবে না। Magistrates All Airports of Bangladesh 

 

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *