জিএ একাডেমী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক,  ৪ শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করেছে

ফুলগাজী মডেল পাইলট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রহিম উল্যার ছেলে মাহমুদ উল্যাহ ফেনী জিএ একাডেমী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির (পলাশ) শাখার ছাত্র। মাহমুদের রোল ১। সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: গিয়াস উদ্দিন দুষ্টুমির অযুহাত দেখিয়ে মাহমুদ উল্যাহকে স্কেল দিয়ে মারতে থাকলে সে লুটিয়ে পড়ে। মাটিতে লুটিয়ে পড়লে শার্টের কলাপ ছেপে ধরে মাটি থেকে উঠিয়ে আবারও বেদড়ক মারতে থাকে। তার গায়ের শার্ট ও প্যান্ট ছিড়ে যায়। একপর্যায়ে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। একই সময় ওই বিদ্যালয়ের একই শ্রেণির (পলাশ) শাখার ছাত্র অক্ষয় রোল ৩ কে ও স্কেল দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। একইভাবে জাহিদ হোসেন রোল ১৪ কে স্কেল দিয়ে বেদড়ক পিটানো শুরু করলে তার নাক দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। একে একে তিনজনকে মেরেও প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন ক্ষ্যান্ত হননি। পলাশ শাখার রোল ১১ আফ্রিদিকে স্কেল দিয়ে পিটিয়ে জখম করে।
মাহমুদের মা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক মারাত্মকভাবে আমার ছেলেকে মারধর করেছে। স্কেল দিয়ে এত বেশী মারধর করেছে ছেলেটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। সে এখন পর্যন্ত হাঁটতে পারছে না। তিনি শুক্রতামূলকভাবে ন্যক্কারজনক এ কাজটি করেছেন। শিক্ষকরা সঠিকভাবে ক্লাশ নেন না। ছেলে-মেয়েরা দুষ্টুমি করলে তাদেরকে বেদড়ক পিটিনো ঠিক নয়। উনার ভয় দেখাতে পারতো।
জাহিদের বাবা মো: শহিদ উল্যাহ জানান, আমার ছেলেকে স্কেল দিয়ে পিটানোর কারনে মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেয়েছে ও নাক দিয়ে রক্ত বের হয়েছে। প্রধান শিক্ষক কাজটি কোনভাবেই ঠিক করেনি। একজন শিক্ষক সন্তানকে এভাবে মারধর করতে পারেন না। আমি এর যথাযথ বিচার দাবী করছি।

অনেক অভিভাবক জানান, প্রধান শিক্ষককের কাছে প্রাইভেট না পড়ার কারনে তিনি এ অমানবিক কাজটি করেছেন। তাকে এ স্কুল থেকে প্রত্যাহার করা হোক। এর আগে একইভাবে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে মারধর করে অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা ছেয়ে পার পেয়ে যান।
জিএ একাডেমী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: গিয়াস উদ্দিন জানান, শ্রেণি কক্ষে দুষ্টুমির জন্য শাস্তি দেয়া হয়েছে।
ফেনী সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: সাইফুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *