৫০০ বেশি বাংলা ছবির কৌতুক অভিনেতা আনিসুর রহমান আনিস আমাদের ফেনীর গর্ব, আমাদের অহংকার।

সাজ্জাদ হোসেন সাখাওয়াত:

৫০০ বেশি বাংলা ছবির কৌতুক অভিনেতা আনিসুর রহমান আনিস আমাদের ফেনীর গর্ব, আমাদের অহংকার।তেমনি আমাদের লজ্জার বিষয় সারা বাংলাদেশ যেখানে কৌতুকে রাজা কে সম্মান দিয়েছে, সেই হিসাবে আমরা তাকে তার উপযুক্ত সম্মান করতে পারি নাই। হাসির রাজা আনিসুর রহমানের জন্ম ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া থানার অন্তর্ভুক্ত বল্লবপুর গ্রামে।

আনিসুর রহমান আনিস আনিস বাংলাদেশের মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত অভিনেতা। পূর্বপাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানে সেই সময় একমাত্র আঞ্ঝলীক ভাষায় অভিনেতা সে ছিল। কৌতুক চরিত্রে বেশী অভিনয় করেন বলে তিনি কৌতুক অভিনেতা আনিস হিসেবে বেশী পরিচিত। তিনি টিভি, মঞ্চ এবং চলচ্চিত্র সবক্ষেত্রেই অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছেন। কৌতুক অভিনেতা আনিস চলচ্চিত্রে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন অভিনেতা নয়, চিত্রসম্পাদক হিসেবে। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ভ্রাতৃদ্বয় এহতেশাম ও মুস্তাফিজের লিও দোসানী ফিল্মসে সহকারী সম্পাদক ও পরিচালক ছিলেন তিনি। এ দুই নির্মাতার মাধ্যমেই একসময় অভিনয়ে নিয়মিত হন আনিস। ১৯৬০ সালে বিষকন্যা ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন। কিন্তু ছবিটি মুক্তি পায়নি। ১৯৬৩ সালে মুক্তি পায় আনিস অভিনীত প্রথম ছবি জিল্লুর রহমান পরিচালিত ‘এইতো জীবন’। তারপর থেকে তিনি অভিনয় করেই গেছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিনি অভিনয় করছেন। নবাব সিরাজদ্দৌলা নাটকে গোলাম হোসেন চরিত্রে অভিনয় করে তিনি মঞ্চে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। বাবা মরহুম আমিনুর রহমান চা বাগানের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার ছাগলনাইয়ার দক্ষিণ বল্লবপুরে। ১৯৬৫ সালে খালাতো বোন কুলসুম আরা বেগমকে ভালোবেসে বিয়ে করেন আনিস। উনপঞ্চাশ বছর একসঙ্গে সংসার করেছেন তারা। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে এতটুকু ছেদ পড়েনি তাদের ভালোবাসায়। আনিসের বড় মেয়ে ফারহা দীবা থাকেন আমেরিকাতে। তার স্বামী তারেক হোসেন সেদেশে ব্যবসা করেন। ছোট মেয়ে ফাতেমা রহমান রিমি কুমিল্লায় আছেন। তার স্বামী আলাউদ্দীন সেখানে ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে কর্মরত। রিমি ইংরেজিতে মাস্টার্স করেছেন। আগে ফরিদপুরের একটি কলেজে অধ্যাপনা করতেন। কিন্তু সন্তান জন্মের পর চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। আনিসুর রহমান নোয়াখালী ভাষা নিয়ে গর্ব করেন।স্রী মরে যাওয়ার পর থেকে অভিনয় থেকে দূরে সরে আসেন। তবে পুরাপুরি ছেড়ে দেন নাই। সুযোগ আসলে করতেও পারেন।এখন বাসার পাশে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামাতে আদায় করেন। তবে খুব একাকীত্ব সময় পার কররছেন এই মহান অভিনেতা।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *