ফেনীর ছাগলনাইয়ায় ছেলের নির্যাতনে মা হাসপাতালে ভর্তি

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় এক কুলাঙ্গার পুত্র পিঠিয়ে মাকে গুরুত্বর আহত করার খবর পাওয়া গেছে। গত শনিবার বেতাগা নিজপানুয়া গ্রামের নশা মিয়া মজুমদার বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে। সূত্রে জানা যায়, হাজী ছন্দু মিয়ার মেঝো ছেলে আবদুর রহিম প্রকাশ আর্মি রহিম তার গর্ভধারিনী মা সবুরা খাতুন (৯০)কে অর্থ এবং সম্পত্তির জন্য সবসময়ে নির্যাতন করে আসছে।
এক পর্যায়ে শনিবার সকালে মায়ের কাছে নগদ টাকা দাবী করে, এতে মা নগদ টাকা দিতে অস্বীকার করলে অসুস্থ মাকে চুলে ধরে কিলঘুষি মেরে অজ্ঞান করে মাটিতে ফেলে চলে যায়।
এ সময় বড় ছেলে আবদুল হাই মাকে উদ্ধার করে ছাগলনাইয়া উপজেলা সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সে বর্তমান চিকিৎসাধীনে রয়েছেন।মা সবুরা খাতুন জানান, আমি তিন ছেলে চার মেয়ে গর্ভধারিনী। কিন্তু আমার সব ছেলে মেয়ের মধ্যে একমাত্র আর্মি আবদুর রহিম উগ্র মেজাজি ও সম্পদ লোভী। আমার স্বামীর ১০কানি সম্পর্দের মধ্যে সে কৌশলে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বাকী ভাই বোনদের বঞ্চিত করে অধিকাংশ সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে সবসময়ে চলে আসছে ঝগড়া কলহ।
ঘটনার দিন সকালে আমার নামে আমার কিছু জায়গা জমি ও কিছু নগদ অর্থ আছে। যাহা আমাদের স্বামী স্ত্রীর চিকিৎসা ও ভরণ পৌষণের জন্য রয়েছে, তাহাও সে আমার কাছ থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে এলোপাথাড়ি মারধর করে। সে তার অসুস্থ বাবাকেও গালিগালাজ করে এবং মারধরের জন্য উদ্ধৃত্ত হয়।
ভূক্তভোগী বড় ছেলে আবদুল হাই জানান, আমি সহজ সরল একজন কৃষক মানুষ। আমার ছোট ভাই আবদুর রহিম আর্মিতে চাকরি করে আমাদের মূখ উজ্জল করার স্বপ্ন ছিল এবং আমাদের পরিবারের সবার মাঝে সে ছিল সবচেয়ে বেশী শিক্ষিত। কিন্তু সে আর্মি চাকরি করেও দিন দিন হয়ে উঠেছে অর্থলোভী, সম্পদ লোভী, মা-বাবা-ভাই-বোনের উপর নির্যাতনকারী। সে আমাদের চলাচলের রাস্তার জন্যও ৫০হাজার টাকা দাবী করে এবং মা বাবা জীবিত থাকা অবস্থাতেও আমাদের পৈত্রিক অধিকাংশ সম্পত্তি দখল করে ফেলেছে। কোন মা-বাবার সেবাযতœ করেনি।
দিন দিন নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়, যার ফল প্রসুত শনিবার আমার গর্ভধারিনীকে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে ফেলেছে। শুধু তাই নয়, আমার মাকে হাসপাতালে আনার পথেও বাধা দেয়, আমি কৌশলে রাত ১০টা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করাই। আমি এই অত্যাচারকারী আর্মি আবদুর রহিমের বিচার দাবী জানাচ্ছি উপজেলা প্রশাসনের নিকট।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *