সোনাগাজীতে চিকিৎসকের অবহেলায় শিশুর মৃত্যু

সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অবহেলায় মারিয়া আক্তার রাহি নামে ৩ বছরের শিশুর মৃত্যু হয়েছে।জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে তাকে শনিবার বিকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে ভর্তি করা হয়। রবিবার সকালে নিহত শিশুর মৃতদেহ চিকিৎসকরা রিলিজ দিয়ে বাড়ীতে পাঠানোর চেষ্টা করলে স্বজনেরা ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের উপর চড়াও হলে পরিস্থিতি উপ্তপ্ত হয়ে উঠে।এসময় তারা মৃতদেহ গ্রহনে অস্বীকার করে অভিযুক্ত চিকিৎসক ও নার্সদের বিচারের দাবীতে মিছিল করতে থাকে।খবর পেয়ে মডেল থানা পুলিশ ও পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। নিহত শিশু সদর উপজেলার পূর্ব চর সাহাপুর গ্রামের দরিদ্র কৃষক আইয়ুব খানের মেয়ে। নিহত শিশুর মা বিবি ফাতেমা জানান, শনিবার বিকালে জ্বর,সর্দি,কাশি আক্রান্ত রাহিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডিউটি রুমে অবস্থানরত জনৈক নার্স চিকিৎসক নেই বলে জানালে তাকে ভারপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাজেদুল করিম অপুর বাসভবনে নিয়ে যায়।তিনি ৩০০ টাকা ভিজিট গ্রহন করে রাহিকে হাসপাতালে ভর্তি করে এবং প্রেসক্রিপশন লিখে দিয়ে বাহির থেকে ঔষধ কিনে নিতে বলে। হাসপাতালে দোতালার ১২ নং সিটে রাত ৯ টা পর্যন্ত কোন চিকিৎসক ও নার্স রাহিকে দেখতে যায়নি।রাতে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত নার্স কে অনেক অনুরোধ জানালে তারা চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা করেনি। তিনি আরো বলে,রাত ১২ টার সময় কর্তব্যরত নার্স জানায়,চিকিৎসক মোর্শেদা কে খবর দেওয়া হয়েছে তিনি আসলে রোগী দেখবেন।রাত ২ টার পর রাহির জ্বর বেড়ে যায় এবং শ্বাস প্রশ্বাস নিতে পারছিলোনা।কোন উপায় না দেখে চিকিৎসক অপুর বাসভবনে গিয়ে দরজা ধাক্কা দিলে তিনি দরজা খোলে উত্তেজিত হয়ে এত রাতে কেন এসেছি বলে সকালে দেখবে জানায়।ফিরে এসে হাসপাতালের সিটে রাহির কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে নার্সকে জানালে সে নেবুলাইজার দিয়ে একপর্যায়ে মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে সটকে পড়ে। অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাজেদুল করিম অপু জানায়,শিশুটির চিকিৎসায় কোন অবহেলা করা হয়নি।প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়ার পরও জটিল নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুটিকে বাঁচানো যায়নি।হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ মোর্শেদা কেন গুরতর অসুস্থ্য শিশুটিকে চিকিৎসা না দিয়ে অনুপস্থিত ছিলো তার কারন জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে। তিনি আরো জানান,হাসপাতালের ২৫ জন চিকিৎসকের মাঝে মাত্র ৩ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছে।চিকিৎসক সংকটের কারনে রোগীদের যথাযথ সেবা প্রদান করা যাচ্ছেনা। চিকিৎসক মোর্শেদার আক্তার জানান, তিনি সিএল ছুটিতে ছিলেন,কনসালটেন্টে রাতে রোগী দেখার নিয়ম নেই।তার কাছে ছুটির প্রমান চাইলে তিনি তাহা দেখাতে অপারগতা জানান। রবিবার দুপুরে পৌর মেয়রের মধ্যস্থতায় চিকিৎসক ও নিহত শিশুটির স্বজনদের বৈঠকের পর বিষয়টি মিমাংশা হলে তার মৃতদেহ দাফনের জন্য বাড়ীতে নিয়ে যায়।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *