মানুষ হতে পারেনি মুসলিম লিডার হবে কি করে

 

ডক্টর আব্দুল বাতেন মিয়াজী

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সমস্ত মুসলিম উম্মাহ এক দেহের মতো, এর এক স্থানে আঘাত লাগলে, সর্বত্র তা অনুভুত হয়।

কিন্তু বাস্ততে আমরা কি দেখছি? ফিলিস্তিনে নিরীহ নারী ও শিশুদের যখন গুলি করে এবং বোমা মেরে হত্যা করা হয় তখন সৌদি রাজ এবং তাদের গৃহপালিত মুফতিরা ফতোয়া দিয়ে বেড়ায়, ইজরাইলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করা হারাম, ইজরাইলকে গালি দেয়া কুফুরি।

চিনের উইঘরে লক্ষ লক্ষ মুসলমানকে জোর করে সংশধন-শিবিরে আটকে রাখা হচ্ছে। তাদেরকে ধর্ম থেকে দূরে রাখতে চীন সরকার হাতে নিয়েছে ভয়ংকর সব ফর্মুলা। রোজা রাখা নিষিদ্ধ করা, দাড়ি রাখা নিষিদ্ধ করা, প্রতি মাসে চিনের কম্যুনিস্ট পার্টির লোকদের নিজ গৃহে মেহমান হিসেবে রাখতে বাধ্য করা এবং নাস্তিক্যবাদে মগজ ধোলাইয়ে সম্মত হতে সব চেষ্টা প্রয়োগ করাসহ নানান ব্যবস্থা চালু করেছে চিনের কম্যুনিস্ট সরকার। সোজা কথায় কাজ না হলে উইঘর মুসলমানদের উপর নেমে আসে অমানবিক অত্যাচারের ষ্টীমরোলার। এতে কতো হাজার প্রাণ হারিয়েছেন তার নির্দিষ্ট কোনও খতিয়ান নেই। তবে পশ্চিমা অনেক সংবাদ মাধ্যম এমন সব ভয়ংকর তথ্যের ব্যাপারে যাচাই বাছাই করে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছে। অথচ আমাদের মুসলমানদের পবিত্র ভূমির দখলদারী সৌদি রাজের পক্ষে যুবরাজ বিন সালমান সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন, মৌলবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে চীন সরকারের অধিকার রয়েছে উইঘরের মুসলমানদের উপর তাদের নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ। মানে উনি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে মুসলমানদের উপর অত্যাচারকে চীনের আত্মরক্ষার অধিকার বলে রায় দিলেন। ঠিক যেমন অবৈধ জারজরাষ্ট্র ইজরাইল সব সময়ই দাবী করে করে থাকে যে তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে ফিলিস্তিনের নিরীহ মানুষদের উপর অত্যাচার চালানোর অধিকার তাদের রয়েছে।

এ ঘোষণা শোনার পর ভেবে পাই না, এরা কোন ধরণের মুসলমান? দেশে দেশে মুসলমানদের উপর অমানবিক অত্যাচার, হত্যাযজ্ঞ, ষড়যন্ত্র, নিপীড়ন চলছে আর সৌদি রাজ তাদের মসনদ রক্ষায় চোখ বন্ধ করে তো আছেনই, উপরন্তু, ওইসব অবিচার এবং অনাচারের বিরুদ্ধে কিছু না বলে বরং ওইসব নিরীহ মানুষগুলোকেই দোষী করে বিবৃতি দিয়ে আসছেন। মিয়ানমার কর্তৃক রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্মূলে সমগ্র বিশ্ব যখন সজাগ, সেখানে সৌদি রাজ নির্বাক। কাশ্মীরের মুসলমানদের উপর যখন অর্ধ শতাব্দীধরে অত্যাচার ও হত্যাযজ্ঞ চলমান, যুবরাজ ঠিক সেই মুহূর্তে ভারতে গিয়ে পাকিস্তানের পাঁচগুণ সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন মোদী তার বড় ভাই। এর দুদিন পরেই চিনে গিয়ে তিনি উইঘর মুসলিমদের উপর অত্যাচারকে হালাল ফতোয়া দিলেন। এরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যে বাণী দিচ্ছেন, সে সন্ত্রাসবাদ তো তাদেরই আবিষ্কার! তালেবান, আল-কায়েদা, বুকো হারাম, আইএসসহ সমস্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আক্বীদা সৌদি ওহাবী আক্বীদা। আর তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন, পশ্চিমাদের অনুরোধে এবং স্বার্থেই বিশ্বব্যাপী ওহাবীবাদের প্রচার ও প্রসার করা হয়েছে।

সাংবাদিক খাসোগী হত্যায় বিশ্বব্যাপী যুবরাজের যখন অবস্থান নড়বড়ে, ঠিক তখনোই তিনি বিশ্বের ক্ষমতাধর কিছু রাষ্ট্রে গিয়ে তার পক্ষে সমর্থন আদায়ে সম্ভব সবকিছু করছেন। এর আগে নিজেদের রাজবংশ টিকিয়ে রাখতে পশ্চিমা দেশসমূহকে নিজেদের পক্ষে রাখতে সব কিছু করে চলেছেন। এরামকোর মাধ্যমে আমেরিকাকে তেলের লভ্যাংশের অর্ধেক দিয়ে দিচ্ছেন। আমেরিকাকে নিজেদের পক্ষে রাখতে প্রয়োজন ইজরাইলের মতো আমেরিকা বান্ধব রাষ্ট্র। ফলে যে ইহুদীদের স্বয়ং রাহমাতুল্লিল আলামীন (দরূদ) মদিনা থেকে বের করে দিয়েছেন, সেসব ইহুদীদের ক্ষতিপূরণ সহ সব ধরণের সহায়তা করার কথা ঘোষণা দিয়েছে এই সৌদিরাজ। আস্তাফিরুল্লাহ!

মুসলমান নাম ধারণ করে এরাই মুসলমানদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে যাচ্ছে। এরাই নিজেদের অর্থ ব্যয় করে সিরিয়ায় রপ্তানি করেছে আইএসের মতো সন্ত্রাসীগোষ্ঠী। সিরিয়ার লক্ষ লক্ষ উদ্বাস্তু বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিলেও, ধনাঢ্য সৌদি সরকার একজন সিরিয়ানকেও আশ্রয় দেয় নি। তুরস্ক আশ্রয় দিয়েছে প্রায় ৩০ লক্ষ সিরিয়ান, জার্মানির মতো খৃষ্টপ্রধান দেশ আশ্রয় দিয়েছে প্রায় ১০ লাখ, সুইডেন দিয়েছে ২ লক্ষ। কিন্তু আরব ধনী দেশগুলো একজন মুসলমান উদ্বাস্তুকেও আশ্রয় দেয়নি। কি বুঝলেন? রাসূল (দরূদ) এঁর হাদিস কি মিথ্যা? এরা মুসলমান হলে অন্য মুসলমানের কষ্টে এদের কষ্ট লাগে না কেন? মুসলমান দূরে থাক এরা তো মানুষের পর্যায়েই পড়ে না! আর এদেরকে কা’বার ইমাম যুগের মুজাদদিদ বলে রায় দিয়েছেন, আল্লাহর ভয়ে নাকি তাদের ভয়ে?

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *