ফেনীর সোনাগাজীতে বখাটের আগুনে পুড়ল এক মাদরাসাছাত্রী।

ফেনীর সোনাগাজীতে বখাটের আগুনে পুড়ল এক মাদরাসাছাত্রী। তার অবস্থা সংকটাপন্ন। তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপস্নেক্স ও পরে ফেনী সদর হাসপাতাল হয়ে ঢামেক এর বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্র জানায়, শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে মাদরাসায় যায় নুসরাত। এ সময় কতিপয় বখাটে তাকে একটি ভবনের চারতলায় ডেকে নেয়। এরপর তার গায়ে কেরোসিন জাতীয় পদার্থ নিক্ষেপ করে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় তারা। এতে তার শরীরের বেশির ভাগ অংশ পুড়ে যায়। তার চিৎকার শুনে উপস্থিত লোকজন ও পরিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠান। পরে ফেনী সদর হাসপাতালে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আবু তাহের বলেন, নুসরাতের শরীরে কেরোসিন জাতীয় পদার্থ দিয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। এতে শরীরের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে তিনি জানান।

খবর পেয়ে ফেনী জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান ও পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার হাসপাতালে গিয়ে নুসরাতের চিকিৎসার খবর নেন।

নুসরাতের চাচাতো ভাই ফরহাদ জানান, গত ২৭ মার্চ নুসরাতকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে মামলা করেন সোনাগাজী থানায়। ওই মামলায় অধ্যক্ষ ফেনী কারাগারে আছেন। এ ঘটনার জের ধরে শনিবারের আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে পরিবারের সদস্যদের ধারণা।

সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এ ঘটনার সাথে জড়িতদের আটকের চেষ্টা করছে পুলিশ। এর যথাযথ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।

 

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *