স্বর্গীয় বাগান পুড়ে নরকানলে; হূর আজি কাতরায় মরণের শয়নে

 

মাওলানা বুরহান উদ্দিন মুহাম্মদ শফিউল বশর 
লেখক ও গবেষক 

‘মাদরাসাহ’ বা দ্বীনি শিক্ষা-নিকেতন ‘বাগে জন্নাত’ বা স্বর্গের ব্গান এবং মু’য়াল্লিম’ বা শিক্ষক ‘মিসলে গুল’ বা পুষ্পতুল আখ্যায়িত হয়েছে কবির কবিতায়।বুলবুল সদৃশ শিক্ষার্থীদের মধুর কলতানে সে স্বর্গীয় পুষ্পোদ্যান মুখরিত থাকারই কথা।পরন্তু সেখানেই আজ নমরূদীরা জ্বালিয়ে রেখেছে নরকের অনল।জ্বলে-পুড়ে দগ্ধ হয়েছে বুলবুল তুল্য এক শিক্ষার্থী।জনিনা, ফেনীর সোনাগাজির সে মাদরাসা ছাত্রীটির কণ্ঠে ‘কালামুল্লাহ’র সুমধুর বাণী আর অনুরণিত হবে কিনা? প্রিয় নবী (দ.)’র হাদীসে পাক আবৃত্তিতে তার রসনা আর কখনো স্পন্দিত হবে কিনা?
ড. আল্লামাহ ইকবাল (র.) লিখেছেন, “একটি প্যাঁচা যথেষ্ট, বাগান বিনাশের তরে; প্রতি শাখায় প্যাঁচা বসা, বাগ-পরিণতি কি হবে?” সোনাগাজির নৃশংসতার জন্য শুধু গুটিকয়েক পেচক-পেচকি দায়ী? নাকি পেচকায়নের পেছনের পুরো কাঠামোও? আমরা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অবশ্যই চাই, তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিপুল অর্থের ভাগ-বাটোয়ারায় যাদের সঞ্চয় স্ফীত, তাদের অন্তরালে রেখে নয়। হুমকি-ধমকির বিষয়ে প্রশাসন অবগত ছিল কিনা? থাকলে তাদের গাফলতি কিংবা অপারগতার কারণ বিবেচনায় নিয়ে কঠোর ব্যবস্থার দাবীও থাকল।হ্যালো সংস্কৃতির ব্যাপারেও সজাগ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
লিঙ্গ-বৈষম্য, নারীর প্রতি নৃশংসতা বৃদ্ধি; কোনটাই অস্বীকার না করে এ বর্বরতাকে শুভ-অশুভের দন্ধ হিসেবে দেখা সমীচীন মনে করি।নৃশংসতার শিকার যেমন নারী, তাতে নারীর জড়িত থাকাও বিবেচ্য।
অশ্রু বাধা মানেনা জানি, তবুও বলছি, নয়নের জলে এ অনল নেভার নয়।অত্যাচারিতের নীরব কান্না মা-বাবা আর গুটিকয়েক আত্মীয়-স্বজন ছাড়া অন্যরা দেখেনা, শুনেনা; দেখলেও সান্ত্বনার নরম আঁচল-পরশ ব্যতিত আর কিছুই পাওয়া যায়না।
সুতরাং আর নীরব কান্না নয়, বজ্র কণ্ঠে আওয়াজ তুলুন, দেখবেন- সহস্র কণ্ঠে তা ধ্বনিত হচ্ছে।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *