একজন আইনজীবির মৃত্যু ও আমাদের জন্য বার্তা

Spread the love

৫৯ বছর বয়সী মোখলেছুর রহমান পেশায় একজন আইনজীবী। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত সহসভাপতি ছিলেন তিনি। শখ করে বাড়ির কাজ শুরু করেছিলেন। মোখলেছুর রহমানের তিনতলাবিশিষ্ট স্বপ্নের বাড়ির নির্মাণকাজ চলছিল। তিন তলার ছাদও হয়ে গিয়েছে। গত ২৬ জুলাই নির্মাণাধীন বাড়ির তিনতলার ছাদে ওঠেন মোখলেছুর রহমানের। এ সময় তিনি সঙ্গে তার এক সন্তানকেও ছাদের ওপর নিয়ে যান। নিজ বাড়ির প্রতি যত্ন-ভালোবাসার তাগিদে ছাদের ওপরে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে শুরু করেন তিনি। এ সময় ছাদের ওপর থেকে রেলিং ধরে নিচে ময়লা ফেলতে গেলে রেলিং ভেঙে নিচে পড়ে যান মোখলেছুর রহমান। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

করোনা দানবের তান্ডব থেকে বাঁচতে মানুষ টিকাসহ নানা সতর্কতা অবলম্বন করছে। মোখলেছুর রহমানও হয়তো প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে করোনার টিকা নিয়েছিলেন, মাস্ক পরতেন, নিয়মিত হাত ধুতেন, স্যনিটাইজার ব্যবহার করতেন। তিনি ঘুণাক্ষরেও হয়তো ভাবেননি নিজের স্বপ্নের বাড়ির রেলিং ভেঙে মারা যাবেন। মোখলেছুর রহমানের কত পরিকল্পনা ছিল এই বাড়িকে ঘিরে! কোন ঘরে তিনি থাকবেন, কেমন টাইলস হবে, পর্দার রং কী হবে সবই হয়তো মনে মনে ঠিক করা ছিল।

মৃত্যু অবধারিত। “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে” – এই চিরন্তন সত্য জানার পরও যদি মোখলেছুর রহমান কোনভাবে অনুমান করতে পারতেন যে, এই ঘরকে কেন্দ্র করেই তার মৃত্যু হবে তাহলে যত শখ-স্বপ্নই থাকুক না কেন, তিনি ঘর বানাতে উদ্যোগী হতেন না, এই কথা নিশ্চিত করেই বলা যায়। কিন্তু কেউ জানে না কার, কোথায়, কিভাবে মৃত্যু হবে। মানুষের মৃত্যুর স্থান ও সময় জানেন শুধু একজন। তিন মহান রাব্বুল আলামিন। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, “প্রত্যেক ব্যক্তির নির্ধারিত সময় যখন উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহ তা’য়ালা কাউকে অবকাশ দেবেন না”। (সূরা মুনাফিকুন: ১১)।

মৃত্যু আমাদের পাশেই ওঁতপেতে রয়েছে। যে কোনো সময় যে কারও কাছে চলে আসতে পারে কোনো নোটিশ ছাড়াই। যার মৃত্যু হলো তার আমল করার সুযোগ চিরতরে শেষ হয়ে গেল। এ কঠিন সত্যটাকে যেন আমরা ভুলে যেন না যাই।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *