ছাত্রলীগ-যুবলীগ মারা গেলে তাদের জানাজা পড়া যাবে না

Spread the love

লেখক- অধ্যাপক আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল হক


বাবুনগরীর ফতোয়া, ‘ছাত্রলীগ-যুবলীগ মারা গেলে তাদের জানাজা পড়া যাবে না’। তাদের মিছিলের স্লোগান ছিল, ‘আওয়ামী কাফের। একটা দুইটা লীগ ধরো, ধইরা ধইরা জবাই করো’। বি. বাড়ীয়ায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল, ‘ছাত্রলীগ-যুবলীগ কাফের। তাদের রক্ত হালাল’। নাউজুবিল্লাহ। ভয়ংকর!!
যারা হেফাজতের তৈরি করা ইস্যুতে সুন্নিদের আন্দোলন না থাকায় আফসোসের সাগরে ডুবে আছেন, তাদের আরও ভাবা দরকার। ঈদে মিলাদুন্নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বন্ধ করার জন্য যারা লাঠিমিছিল করে, লাথি মেরে মাজার ভেঙে দেয়ার হুমকি দেয়, ঈদে মিলাদুন্নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাবারুককে পায়খানার সাথে তুলনা করে, মিলাদ-কেয়ামকে কালিপূজার সাথে তুলনা করে, আরো কত কি! তাদের বানানো ইস্যুতে আহলে সুন্নাতের আন্দোলন?
যাহোক, ফতোয়ার অংশ তো দেখলেন। এবার সাবেক আমীরের বক্তব্যটা মনে আছে তো? লালদিঘীর ময়দানে বলেছিল, ‘আওয়ামী লীগ আমাদের শত্রু নয়— আমাদের বন্ধু’৷ জুনায়েদ আল হাবিবের কথা মনে করুন, বলেছিল—”আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ ইসলামবিরোধী নয়। তাদের দানে মাদ্রাসা চলে”। এই দিকে ফতোয়া হলো— ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ কাফের। এই হলো হেফাজত! যারা পাওয়া না পাওয়ার জন্যই ফতোয়া জারি করে। একসময় যে ছিল নাস্তিক, কিছু পাওয়ার পর সে হয়ে যায় তাহাজ্জুদগুজার। আহলে সুন্নাত এমন ডিকবাজী থেকে মুক্ত।

যাদের দানে তাদের মাদ্রাসা চলে, যে ছাত্ররা আওয়ামী লীগের দানের খাওয়া খেয়ে পড়াশোনা করে, সেই লীগের বিরুদ্ধে কুফরি ফতোয়া!! তাহলে কাফেরের দানে মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ, পরিচালনার বিধান কী হবে? হেফাজতী আদর্শের লোকজনের ছেলেমেয়ের সাথে লীগ পরিবারের যাদের সাথে বিবাহ হয়েছে তাদের কি হবে!! ওগুলো তো সবই যেনা হবে!! সন্তান হলে জারজ হবে!! আস্তাগফিরুল্লাহ, এই হলো হেফাজত! যে পাতে খায় সেই পাতে হাগে! শিয়ালের বাচ্চার গল্প মনে আছে তো? আসলে আওয়ামী পরিবারের যারা সওয়াব এবং জান্নাতের আশায় ও নেশায় কওমি মাদ্রাসায় জাকাত-দান-খয়রাত করেন, এই ফতোয়া তাদের জন্য নতুন সিলেবাস।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *