Saturday, October 16, 2021
spot_img
Homeজাতীয়ইভ্যালির রাসেল-নাসরিন গ্রেপ্তার

ইভ্যালির রাসেল-নাসরিন গ্রেপ্তার

অর্থ আত্মসাতের মামলায় আলোচিত ই-কমার্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডে রাসেলের বাসায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।


বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছ। সে জন্য তাদের আজকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব হেডকোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’


রাসেল-নাসরিনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় ইভ্যালির ভুক্তভোগী অর্ধশতাধিক গ্রাহক বিক্ষোভ করছিল।
ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাসেলের বাসায় অভিযানের খবর পেয়ে এসব গ্রাহক বাসার সামনে জড়ো জন। গ্রাহকদের কেউ কেউ বলছেন, রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হলে গ্রাহকরা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের যেসব কর্ণধারদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠান দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত কেউই তাদের অর্থ ফেরত পাননি।
রেদোয়ান নামে একজন গ্রাহক বলেন, ‘ইভ্যালির রাসেলকে যথাযথ নজরদারির মধ্যে রেখে আরও কিছুদিন সময় দেয়া উচিত। একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে তাকে গ্রাহকদের টাকা ফেরত বা পণ্য দিতে বাধ্য করা যেতে পারে। তাকে ধরে নিয়ে গেলে গ্রাহকরা পণ্য বা টাকা কিছুই পাবে না।’


ইভ্যালির সেলার মনিরুল হাসান সবুজ বলেন, ‘আমরা তাকে সময় দিতে চাই। তিনি ছয় মাস সময় চেয়েছিলেন। মাত্র এক মাস গেছে। আমরা আরও পাঁচমাস সময় দিতে চাই। ইভ্যালির সংকট চললেও তারা গ্রাহকদের প্রোডাক্ট দিচ্ছিলেন। আমরাও টাকা পাচ্ছিলাম। এখনতো আর পাব না। তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।’


গুলশান থানায় বৃহস্পতিবার সকালে রাসেল ও নাসরিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা করেন আরিফ বাকের নামে ইভ্যালির এক ভুক্তভোগী গ্রাহক। মামলায় পণ্য কেনার জন্য অর্ডার করে নির্ধারিত অঙ্কের টাকা জমা দিয়েও পণ্য না পেয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনেছেন তিনি।


মামলার বাদীর অভিযোগ, গত ২৯ মে ইভ্যালির চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দেখে তিনি ও তার বন্ধুরা কয়েকটি পণ্য অর্ডার করেন। ২৯ মে থেকে ১৯ জুনের মধ্যে ছয়টি অর্ডারের বিপরীতে মোট ৩ লাখ ১০ হাজার ৫৯৭ টাকা পরিশোধ করেন।
এজাহারে বলা হয়, পণ্যগুলো ৭ থেকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে ডেলিভারি দেবে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলে উক্ত প্রতিষ্ঠান সব টাকা ফেরত প্রদানে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল।


বাদী বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্যগুলো না পাওয়ায় আমি বহুবার ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ারের প্রতিনিধির নম্বরে ফোন করি। সবশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর যোগাযোগ করেও আমার অর্ডার করা পণ্যগুলো পাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। প্রতিবার তারা আমার পণ্যগুলো দিয়ে দিচ্ছি বলে আশ্বস্ত করে যাচ্ছিল।’


এজাহারে বাদী বলেছেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর আরিফ ও তার দুই বন্ধু ইভ্যালির অফিসে যান। সিইও রাসেলের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে বাধা পেয়ে ফিরে আসেন। পরদিন তারা আবার যান ইভ্যালি অফিসে। অফিস প্রতিনিধিরা আরিফ ও তার বন্ধুদের সঙ্গে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। এসব শুনে ভেতর থেকে সিইও রাসেল বেরিয়ে আসেন এবং তিনি হুমকি ও ভয়ভীতি দেখান।
ইভ্যালির বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে গত মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করে ই-কমার্সবিষয়ক জাতীয় কমিটি। বৈঠকে ইভ্যালির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়।


ডিজিটাল ই-কমার্স সেলের প্রধান ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) হাফিজুর রহমান জানান, ইভ্যালি ইস্যুতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আর সময় নিতে চায় না। এ বিষয়ে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেয়া হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments

মামুনুর রশিদ on Communication Skills